জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ এবং এর কর্মকর্তাদের ‘অহংকারী পরজীবী’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি জাতিসংঘের কার্যকারিতা, বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে সংস্থাটির ভূমিকার সমালোচনা করেন।
মাইলেই অভিযোগ করেন, যৌথ নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দাবি, এর পরিবর্তে সংস্থাটির কর্মকাণ্ডের কারণে বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা ও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘ সম্পর্কে আরও কঠোর মন্তব্য করে মাইলেই বলেন, সংস্থাটি এমন একটি ‘অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে’ পরিণত হয়েছে, যা সদিচ্ছাপূর্ণ আমলাতন্ত্রের আড়ালে থাকা ‘অহংকারী পরজীবীদের’ লালন করছে। তাঁর এই মন্তব্য জাতিসংঘের বর্তমান কাঠামো ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের সমালোচনামূলক অবস্থানেরই প্রতিফলন।
ভাষণে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়েও জাতিসংঘের সমালোচনা করেন মাইলেই। ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণাধীন এই দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনা ‘লাস মালভিনাস’ নামে উল্লেখ করে এবং নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে।
মাইলেই বলেন, দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে জাতিসংঘের একটি প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যকে একতরফাভাবে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাজ্য ওই অবস্থান উপেক্ষা করলেও জাতিসংঘ বিষয়টি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। যুদ্ধে যুক্তরাজ্য জয়ী হয় এবং দ্বীপপুঞ্জটি বর্তমানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে আর্জেন্টিনা এখনো দ্বীপগুলোর ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে দ্বীপপুঞ্জের আশপাশের সমুদ্র এলাকায় তেল অনুসন্ধান নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মাইলেই তাঁর ভাষণে বলেন, যারা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলে, তারা এর জন্য কোনো পুরস্কার পায় না; আর যারা নিয়ম ভঙ্গ করে, তাদেরও কোনো পরিণতি ভোগ করতে হয় না। তাঁর বক্তব্যে জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও আন্তর্জাতিক নিয়মের প্রয়োগ নিয়ে অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে বিশ্বব্যাপী সংঘাত, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এর মধ্যেই মাইলেইয়ের বক্তব্য জাতিসংঘের কার্যকারিতা ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এবারের অধিবেশনে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।












