নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় তারেক মিয়া (২৮) নামের এক তরুণের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বাহেরচর মধ্যপাড়া এলাকায় বাড়ির পেছনের একটি গোয়ালঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা অলিউর রহমানের বিরুদ্ধে ছেলেকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
নিহত তারেক ওই গ্রামের অলিউর রহমানের ছেলে। স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, মাদকের টাকার জন্য তারেক প্রায়ই বাবা-মাকে মারধর করতেন। তাঁর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাবা তাকে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তারেক মালয়েশিয়ায় প্রবাসী ছিলেন। সেখানে মাদক সেবনের কারণে তাঁকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দেশে ফেরার পর আবারও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। নেশার টাকার জন্য প্রায়ই বাবা-মায়ের ওপর নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে মাদকের টাকার জন্য বাড়িতে ভাঙচুর করেন তারেক। একপর্যায়ে তাঁর বাবা অলিউর রহমান ছেলের হাত-পা বেঁধে বাড়ির পেছনের একটি গোয়ালঘরে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে মারধর করা হয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর থেকে অলিউর রহমানের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের অন্য সদস্যদের এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নেশার টাকাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। নিহতের মাথার পেছনে ও ডান কানের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত জানা যাবে।












