জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে অনুষ্ঠিতব্য বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ববৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ূন কবির। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কোনো আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ূন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মূলত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে এসেছেন। এ সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কোনো কর্মসূচি নেই।
এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা। তুর্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ইস্তাম্বুল হয়ে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। পরে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রায় তাঁকে সফরকালীন আবাসস্থল হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।
সফরসূচি অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হিসেবে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের কর্মসূচি রয়েছে। নির্ধারিত সূচিতে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা রয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্টসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক ও সাক্ষাতের কর্মসূচি রয়েছে।
এ ছাড়া অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা, ওয়াল স্ট্রিট ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ, উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ২৪ সেপ্টেম্বরের জাতিসংঘ ভাষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়েও একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় সময় ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নিচ্ছেন। বাংলাদেশের এবারের অংশগ্রহণের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারণ এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে অংশগ্রহণ ও ভাষণ।












