বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনের কেন্দ্র বা এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে জাতীয় বিমান বহর আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে সরকার। দেশের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আরও বোয়িং কেনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, দেশের প্রয়োজন অনুযায়ীই বোয়িং কেনা হচ্ছে। বাংলাদেশের বিমান বহর আরও বড় করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে প্রয়োজন মনে হলে আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা হবে।
এদিকে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, কারিগরি মূল্যায়ন ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের মাধ্যমে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি আকাশপথ চালুর আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নতুন সরকারের অংশগ্রহণকে সফল ও তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে সফর সংক্ষিপ্ত করার বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা নাকচ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, চার দিনের নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু পরিবর্তন, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট, বৈশ্বিক শান্তি ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রায় ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি ১১টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে তিনি নির্ধারিত সময়েই দেশে ফিরেছেন।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণকে একটি বিরোধী দলের নেতার ‘দলীয় বক্তব্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করার মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন হুমায়ুন কবির। তিনি এ ধরনের মন্তব্যকে ‘অপরিপক্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কোনো বক্তব্য না বুঝে, না পড়ে বা না শুনে এ ধরনের মন্তব্য করা সমীচীন নয়। জলবায়ু পরিবর্তন ও রোহিঙ্গা সংকট কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়; এগুলো জাতীয় ও বৈশ্বিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে জাতিসংঘ সফরের বাইরে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত ও তুরস্ক সফর এবং গঙ্গা ও তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং ও ইউরোপের এয়ারবাস—কোন নির্মাতার কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনা হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিক্যাব) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে এয়ারবাসের প্রস্তাবের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, বিমান বাংলাদেশের বহরের জন্য উড়োজাহাজ কেনা এবং সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মতো বড় প্রকল্প বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রান্সের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব পক্ষকে সমান সুযোগ দেওয়াকে সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের প্রায় সাড়ে ৪ বিলিয়ন ইউরোর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে আরও বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা জোরদারের ক্ষেত্রে এয়ারবাস-সংক্রান্ত প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি আরও বলেন, ফ্রান্স চাপ বা ‘ব্ল্যাকমেইল’ ধরনের কূটনীতিতে বিশ্বাস করে না।
বিমান বহর সম্প্রসারণের পাশাপাশি ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।












