সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর একই পরিবারের তিন ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার এলাকার একটি কারখানার সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তাদের বাবা হেলালউদ্দিন। উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন নিখোঁজ হেলালউদ্দিনের ছেলে সজীব হোসেন, মেয়ে সামিয়া আক্তার ও ছোট ছেলে সামিন হোসেন। এ ঘটনায় শনিবার সোনারগাঁও থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার পর স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দলও উদ্ধার অভিযান চালায়। এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ট্রলারে থাকা দুটি গরু ও একটি ছাগলও উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা যায়, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাদের ১৩ জন আত্মীয় স্বজন বিয়ের বাজার, দুটি গরু ও একটি খাঁসিসহ ট্রলারযোগে আসেন। পথে মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় পৌঁছালে আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে ট্রলারটি ঝড়ের কবলে পড়ে নদীতে তলিয়ে যায়। এসময় আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার ৮ জনকে উদ্ধার করে। তবে রায়েশা বেগম, হেলালউদ্দিন, সজিব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেন নিখোঁজ হন। ঘটনার আধা ঘন্টা পর রায়েশা বেগমের লাশ উদ্ধার হলেও বাকিরা নিখোঁজ রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ও শুক্রবার সকাল থেকে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও তাদের কোন সন্ধান মেলেনি। তবে শুক্রবার বিকেলে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ট্রলারে দুটি গরু ও একটি খাসি মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। রাত ৮টা পর্যন্ত মেঘনা নদীতে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল নিখোঁজদের সন্ধান না পেয়ে উদ্ধার তৎপরতা স্থগিত করে। পরে দু’দিন পর শনিবার সকাল ৮টার দিকে বৈদ্যেরবাজার এলাকায় একটি কোম্পানির সামনে নদীতে ভাসমান অবস্থায় সজীব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিন ভাই বোনের মরদেহ উদ্ধারের পর সকালেই পরিবারের কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করে বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল। নিহতদের মামা হায়াত মিয়ার কাছে তাদের লাশ হস্তান্তর করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিহত রায়েশা বেগম (৫৫) লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই আবুল কাশেমের কাছে ওই নারীর লাশ হস্তান্তর করে বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাাঁড়ি পুলিশ। নিহত রায়েশা বেগম ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী। এ নিয়ে ৪ লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী শিরিন বেগম ও তার আরেক মেয়ে লামিয়া আক্তারকে ট্রলার ডুবিব সাথে সাথে জীবিত উদ্ধার করে স্থানীয়রা। তাদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নিহতদের মামা হায়াত মিয়া জানান, পুলিশের কাছ থেকে তার দুই ভাগিনা ও ভাগনির মরদেহ গ্রহনের পর হোমনার শ্রীমুদ্দি গ্রামের নিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। বাদ যোহর জানাযা শেষে তাদের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তবে তার বোন জামাই হেলালউদ্দিনের সন্ধানে মেঘনা নদীতে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, মেঘনা নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৪ জনের মধ্যে তিন সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বাবা হেলালউদ্দিন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়ার মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ নিয়ে নারীসহ ৪ জনের লাশ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, সোনাময়ী এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে নিখোঁজদের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হেলালউদ্দিনকে উদ্ধারের ফায়ার সার্ভিস নদীতে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
সোনারগাঁও থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ট্রলার ডুবির ঘটনায় প্রাথমিকভাবে থানায় অপমৃত্যু মামলা গ্রহন করা হবে। পরবর্তীতে তদন্তের পর কেউ হত্যা যোগ্য অপরাধ করে থাকলে অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।












