যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ওয়াশিংটনে বৈঠকে তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধ এবং আগের অনুমোদিত অস্ত্র সরবরাহের গতি কমানোর বিষয়ে চাপ দিতে পারেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিষয়টির সঙ্গে ১৯৮২ সালের যুক্তরাষ্ট্র-চীন তৃতীয় যৌথ ঘোষণার প্রসঙ্গও আলোচনায় আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।
চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও শির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৮২ সালের ওই যৌথ ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমানোর অভিপ্রায় প্রকাশ করেছিল। চীন দীর্ঘদিন ধরে এই নথির উল্লেখ করে তাইওয়ানে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি জিনপিং ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শনের সময়ও ওই ঐতিহাসিক নথির প্রসঙ্গ তুলতে পারেন। তবে এটি এখনো সম্ভাব্য আলোচ্য বিষয়; শি বৈঠকে ঠিক কী অবস্থান নেবেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
তাইওয়ান ইস্যু যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে এবং দ্বীপটির সঙ্গে মার্কিন সামরিক সহযোগিতার বিরোধিতা করে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না রাখলেও মার্কিন আইনের আওতায় দ্বীপটির আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছে।
বর্তমানে তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্ভাব্য মার্কিন অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি রেকর্ড অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করেছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদিত অস্ত্রের কিছু সরবরাহ নিয়েও চীনের আপত্তি রয়েছে।
রয়টার্সের পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে এশিয়ার কয়েকটি মিত্র দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, বাণিজ্য ও অন্যান্য বিষয়ে সমঝোতার বিনিময়ে ওয়াশিংটন তাইওয়ান নীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
এদিকে মার্কিন কংগ্রেসের কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। মে মাসে দ্বিদলীয় মার্কিন সিনেটরদের একটি চিঠিতেও তাইওয়ানের জন্য অনুমোদিত প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজের বিষয়ে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল।
চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তাইওয়ান ছাড়াও বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতা চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন এবং উভয় পক্ষই সম্পর্ককে আরও অবনতির দিকে যাওয়া ঠেকাতে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
ফলে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প-শি বৈঠকে তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি ও সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হয়ে উঠতে পারে। তবে বৈঠকের আগে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা সমঝোতা হয়েছে—এমন তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।












