জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে এবং এ অবস্থায় তাদের ক্ষমতায় থাকার যৌক্তিকতা নেই।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার কেরানীহাটে এনসিপির উপজেলা শাখার আয়োজনে মতবিনিময় ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমসাময়িক প্রতিবেদনে ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এনসিপিতে যোগদানের কথাও জানানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে পাটোয়ারী বলেন, সাধারণ মানুষের সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কতটা সক্ষম—তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন দেখছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন এবং বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সরকারের ক্ষমতায় থাকার যৌক্তিকতা থাকে না।
পুলিশ ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যকার সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার উদাহরণ টেনে এনসিপির এই নেতা আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, কোথাও যুবদলের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হচ্ছে, আবার কোথাও চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক ব্যক্তিকে উদ্ধারে পুলিশ যাচ্ছে। তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে পাটোয়ারী বলেন, সরকার জনগণের সামনে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বললেও বাস্তবে তিনি কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দেখতে পাচ্ছেন না। তাঁর দাবি, অতীতের দুর্নীতির সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা টেনে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে দুর্নীতির অভিযোগও তোলেন। এসব মন্তব্য তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য; দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো প্রমাণ বা তদন্তের ফল তিনি উপস্থাপন করেননি।
বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সম্পর্কেও কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেন পাটোয়ারী। তিনি আওয়ামী লীগকে ভারতের ঘনিষ্ঠ এবং বিএনপিকে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত দল হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর ভাষ্য, দুই দলের কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব রাজনৈতিক অভিযোগেরও কোনো স্বতন্ত্র প্রমাণ তিনি বক্তব্যে দেননি।
তারেক রহমানের পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে পাটোয়ারী বলেন, দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও এর প্রভাবের বাইরে থাকবেন না। এ সময় তিনি তারেক রহমানের মেয়ে জায়মা রহমানের কথাও উল্লেখ করেন এবং তাঁকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন।
বিএনপি সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সমালোচনা করে পাটোয়ারী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও খাল খনন কর্মসূচির প্রসঙ্গও তোলেন। ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কর্মসূচির একটি ঘটনা উল্লেখ করে তিনি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে তাঁর বক্তব্যে উত্থাপিত এসব সমালোচনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ওই অনুষ্ঠানে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়ার কথা জানা যায়নি।
কর্মসংস্থান, গ্যাস ও বিদ্যুতের পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক। তিনি সরকারের ঘোষিত এক কোটি কর্মসংস্থান, গ্যাস সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র জানতে চান। পাশাপাশি এলপিজি ও বিদ্যুতের দাম নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন পাটোয়ারী। বিমানবন্দরের সেবা, বিদেশে কর্মসংস্থানে কথিত সিন্ডিকেট এবং প্রবাসীদের ভোগান্তির বিষয় তুলে ধরে তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও তাঁদের সমস্যার যথাযথ সমাধান হচ্ছে না।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি এ এম মুন্না চৌধুরী। প্রধান বক্তা ছিলেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ। এ ছাড়া এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।
পাটোয়ারীর বক্তব্যে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক সমালোচনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু উঠে আসে। তাঁর উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সরকারি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পৃথক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা দিয়ে দাবিগুলোর বিষয়টি আরও যাচাই করা যাবে।












