রানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ সাত মাসে গড়ানোর মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চাপ বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ দিকে যেতে পারে। একই সময়ে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো অথবা সামরিক পদক্ষেপ আরও বাড়ানোর—এই দুই পথের একটিকে বেছে নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধ দ্রুত অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন। তবে তার বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট নতুন সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
এদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের একটি আস্থাবর্ধক পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে পরিকল্পনার আওতায় কয়েক দিনের মধ্যে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া এবং সপ্তম দিনে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানি তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়ার বিষয়। এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফেরার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।
তবে ট্রাম্প প্রথম পর্যায়ে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এরপরও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বর কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা দোহায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির কাছে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়া পৌঁছে দেন।
আলোচনার অন্যতম অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে বিভিন্ন পদক্ষেপ কোন ক্রমে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থাৎ পরিকল্পনার উপাদানগুলোর পাশাপাশি সেগুলো বাস্তবায়নের সময় ও ক্রম নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আরাঘচি তেহরানে ফিরে মার্কিন প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও মন্ত্রিসভার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় ঠিক কী বলা হয়েছে, তার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার হয়। উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে যোগাযোগ চালিয়ে গেলেও হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য এখনো রয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।










