জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ কোনো আনুষ্ঠানিক আড়ম্বর বা ক্ষমতার প্রদর্শন নয়; বরং দেশের মানুষের স্বার্থ ও কল্যাণে নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে সোমবার সকালে ৮১তম ইউএনজিএ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও রয়েছেন। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, যাতায়াতের সময় বাদ দিলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর অবস্থান চার দিনের মতো। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কার্যক্রম রাখা হয়েছে।
সফরসঙ্গীদের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিদল তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। ইউএনজিএ সফরসংক্রান্ত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ৩৮ সদস্যের প্রতিনিধিদলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর প্রথম ভাষণ। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
মাহদী আমিন তাঁর ফেসবুক বার্তায় আরও বলেন, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তাঁর বিশ্বমঞ্চে উপস্থিতি ঘটবে। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিয়েছেন। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর বক্তব্য দিলে তিনি পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার নজির গড়বেন।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব এবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান পালন করছেন। তিনি ২ জুন ২০২৬ সালের নির্বাচনে ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জাতিসংঘের অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের থিম ‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচিতে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজিত স্বাগত নাশতা, সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সংবর্ধনাসহ বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কর্মসূচিতেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
মাহদী আমিন তাঁর বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদারের একটি সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সফরের মাধ্যমে বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ও সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করা হবে।












