চট্টগ্রামের শিল্পপতি, রাজনীতিক ও আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ব্যক্তিজীবন নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জাপানি সরকারি নথি, ব্যাংকিং কাগজপত্র, আলোকচিত্র ও সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, ১৯৯২ সালে যুক্তরাজ্যে জাপানি নাগরিক মিনাকো কাওয়ারাজাকিকে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তাঁদের দুই কন্যাসন্তানও রয়েছে বলে নথিতে উঠে এসেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট যুক্তরাজ্যে মিনাকো কাওয়ারাজাকিকে বিয়ে করেন। ২০০৭ সালের ১৫ মার্চ ঢাকায় জাপানি দূতাবাস থেকে দেওয়া একটি বিবাহ সনদেও এ তথ্য উল্লেখ রয়েছে। সনদটি জাপানের কানাগাওয়া প্রিফেকচারের চিগাসাকি শহরের সরকারি পারিবারিক নিবন্ধনের সত্যায়িত কপির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
নথিতে মিনাকো কাওয়ারাজাকির জন্মতারিখ ১৯৬০ সালের ২২ মার্চ এবং তাঁকে কানাগাওয়া প্রিফেকচারের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আখতারুজ্জামানের জন্মতারিখ ১৯৪৫ সালের ৩ মে লেখা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রকাশিত জীবনীতে তাঁর জন্মতারিখ ১ মে ১৯৪৫ দেওয়া হয়েছে। ফলে জন্মতারিখ নিয়ে প্রকাশিত নথিতে পার্থক্য রয়েছে।
এই দম্পতির জ্যেষ্ঠ কন্যা নীনা কাওয়ারাজাকি ১৯৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন বলে জাপানের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল হংকংয়ে জাপানের কনস্যুলেট-জেনারেল থেকে দেওয়া জন্মসনদে তাঁর বাবার নাম হিসেবে আখতারুজ্জামান চৌধুরী এবং মায়ের নাম হিসেবে মিনাকো কাওয়ারাজাকি উল্লেখ করা হয়েছে। মিনাকো দুই কন্যাসন্তান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তাঁদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত একটি ছবিতেও আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে মিনাকো ও দুই শিশুর সঙ্গে একটি হোটেলের বাইরে দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছবিতে থাকা নারীকে মিনাকো হিসেবে আলাদাভাবে যাচাই করা হয়েছে।
এতদিন বাংলাদেশে প্রকাশিত বিভিন্ন জীবনী ও পরিচিতিতে আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর স্ত্রী হিসেবে চট্টগ্রামের শিল্পপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মেয়ে নূর নাহার জামানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব জীবনীতে তাঁদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ের কথা বলা হয়েছে। নতুন প্রকাশিত তথ্য সেই পরিচিত পারিবারিক বিবরণের বাইরে আরেকটি পরিবারের অস্তিত্বের বিষয়টি সামনে এনেছে।
নতুন তথ্য সামনে আসার একটি সূত্র হিসেবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) নথির কথাও এসেছে। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নীনা কাওয়ারাজাকি (জামান চৌধুরী) ইউসিবির গুলশান করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপকের কাছে একটি চিঠি দেন। সেখানে তিনি জানান, ২০১২ সাল থেকে তাঁর প্রয়াত বাবা আখতারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর নামে একটি স্থায়ী আমানত রয়েছে।
আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বাংলাদেশের গণপরিষদের সদস্য, একাধিকবারের সংসদ সদস্য এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যবসায়ী। ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মিনাকো জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আখতারুজ্জামানের অন্য পরিবারের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি এবং দুই পরিবার আলাদা জীবনযাপন করেছে। এমনকি স্বামীর মৃত্যুর খবরও তিনি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পারেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের দুই কন্যাও বাংলাদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি।
নতুন তথ্যগুলো প্রকাশ্যে আসার পর আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর পারিবারিক জীবন, সম্পত্তি এবং তাঁর উত্তরাধিকারীদের নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশিত হলে পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে।












