মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ মঙ্গলবার মারাকেশের মেয়র ফাতিমা এজ্জাহরা এল মানসুরিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফাতিমা এজ্জাহরা এল মানসুরি মধ্য-ডানপন্থী অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টির (পিএএম) শীর্ষ নেতৃত্বের একজন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মরক্কোর পার্লামেন্ট নির্বাচনে দলটি ৩৯৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে ৯৭টি আসন পেয়ে সবচেয়ে বেশি আসন লাভ করে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দলের চেয়ে পিএএম ৩১টি আসন বেশি পেয়েছে। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৯৮টি আসন না পাওয়ায় নতুন সরকার গঠনে দলটিকে জোটের সমীকরণে যেতে হবে।
রাজপ্রাসাদের ঘোষণায় বলা হয়েছে, রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ রাজধানী রাবাতে এল মানসুরির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন। মরক্কোর সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতা বা নেতৃত্ব থেকে রাজা সরকারপ্রধান নিয়োগ করেন।
৫০ বছর বয়সী এল মানসুরি পেশায় আইনজীবী। তিনি এর আগে আবাসন ও নগর পরিকল্পনা-সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মারাকেশের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার নিয়োগের মধ্য দিয়ে মরক্কোর রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
নিয়োগের পর টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে এল মানসুরি তার নিয়োগকে ‘সত্যিই ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিচ্ছেন। তার ভাষায়, এই দায়িত্ব শুধু তার নিজের জন্য নয়, মরক্কোর সব নারীর জন্যই গর্বের বিষয়।
এদিকে এবারের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। প্রায় ৩৮ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের শাসনামলে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ভোটার উপস্থিতির ঘটনা। নির্বাচনের ফলাফলে পিএএম সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সরকার পরিচালনার জন্য তাদের অন্যান্য দলের সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে।
নতুন সরকারের সামনে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও জনসেবার মতো বিষয়গুলোর পাশাপাশি ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতিও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে থাকছে। মরক্কো স্পেন ও পর্তুগালের সঙ্গে যৌথভাবে ওই বিশ্বকাপ আয়োজন করবে।












