কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় সুমনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামে তাঁর ভাইয়ের বাসা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাজমিন হত্যার ঘটনায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তাজমিনকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন সুমন। কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা মল্লিকপাড়ার বাসিন্দা আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা শহরে বসবাস করত সে। সেখানে স্থানীয় ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত তাজমিন।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়। পরে তাকে বহনকারী অটোরিকশার চালক সুমনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
একজন স্কুলশিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
তবে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং মামলার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।












