জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব পদায়নের বৈধতা নিয়ে রিট
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে দুই মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব ও সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে পদায়নের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। রিটে সংশ্লিষ্ট পদায়নের প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম স্থগিতের পাশাপাশি ওই তিন কর্মকর্তাকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রত্যাহার করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে পদায়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় রিটটি ১৯৭ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। এর আগে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশেদুল হক খোকন আবেদনকারী হয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।
রিট আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব জি এম ফারহান ইসতিয়াককে যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করে গত ৯ মার্চ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর আগে ২৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) কামরুল হাসানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়। আর চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (সিনিয়র সিভিল জজ) হিসেবে পদায়ন করে ১৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনগুলোতে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের কথা উল্লেখ রয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, বিচারিক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী পদে বদলি বা নিয়োগের উদ্দেশ্যে জারি করা এসব স্মারক ২০২৫ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার আওতা ও পরিধির বাইরে। যে পদগুলোতে তিন বিচারিক কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে, সেগুলো ওই বিধিমালার ৪(১) বিধি কিংবা তফসিলে উল্লেখ নেই বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট স্মারকগুলো বেআইনি ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।
রিটের যুক্তিতে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ-সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার রায়ের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, আপিল বিভাগের ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জুডিশিয়াল সার্ভিস প্রজাতন্ত্রের একটি সার্ভিস হলেও এটি বেসামরিক নির্বাহী ও প্রশাসনিক সার্ভিস থেকে কার্যত ও কাঠামোগতভাবে পৃথক ও স্বতন্ত্র। ফলে বিচারিক কর্মকর্তাদের মন্ত্রীদের একান্ত বা ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে বদলি বা নিয়োগ ওই নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক—এমন দাবি করা হয়েছে।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস বলেন, জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া বিচারকদের চাকরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সুযোগ নেই। তাঁর দাবি, পদায়ন-সংক্রান্ত স্মারকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি ন্যস্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের নীতির পরিপন্থী। আগামী সপ্তাহে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে বলেও জানান তিনি।
রিটে ২৫ ফেব্রুয়ারি, ৯ মার্চ ও ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা তিনটি পদায়ন-সংক্রান্ত স্মারক কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদগুলোর বাইরে কোনো বিচারিক কর্মকর্তাকে বদলি বা নিয়োগ না করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রুলের শুনানি ও নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনটি স্মারকের কার্যক্রম স্থগিত এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জুডিশিয়াল সার্ভিসে পদায়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।












