দেশের মানুষ বর্তমানে সম্মান ও নিরাপত্তা—দুই দিক থেকেই ভালো নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মানুষের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা রক্ষায় সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে আয়োজিত জাতীয় মুফাসসির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করতে হবে, যাতে তারা নিজেদের সম্মানিত ও নিরাপদ মনে করেন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আচরণে যেন সাধারণ মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আলেম সমাজের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দু-একজন আলেমের আচরণ বা ভুলের কারণে পুরো আলেম সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং সবাইকে একইভাবে দায়ী করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, আলেমদের সঙ্গে বিদ্রূপ বা কটাক্ষ না করে ভালোবাসা ও সম্মানের সঙ্গে কথা বলা উচিত। একই সঙ্গে আলেমদেরও নিজেদের ভালো-মন্দের বিষয়ে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া একটি আইনের বিষয়ে ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ওই আইন কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী। আইনটি সংশোধনের বিষয়ে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, যারা আল্লাহকে ভয় করেন, তারা অন্য কাউকে ভয় করেন না।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরেও ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেছিলেন, আইনটি কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থী। তিনি ওই আইন প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছিলেন। তবে সরকার ও আইনটির সমর্থকদের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। ফলে আইনটির বিষয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে।
জাতীয় মুফাসসির সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মানুষের প্রতি সম্মানজনক আচরণ এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত আলেম, মুফাসসির ও ধর্মীয় ব্যক্তিরা অংশ নেন। সেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ব এবং সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।












