সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি আন্দোলন। শনিবার (৩ অক্টোবর) হামলাটি চালানো হয়েছে বলে দাবি করে গোষ্ঠীটি জানায়, ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও অন্যান্য এলাকায় সৌদি হামলার জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, শনিবার রিয়াদের একটি আরামকো স্থাপনার আশপাশ থেকে বড় ধরনের ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখা গেছে। তবে ওই স্থাপনাটি হামলার শিকার হয়েছে কি না, তা সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি। সৌদি আরামকোর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, রিয়াদের একটি তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। গোষ্ঠীটির বক্তব্য অনুযায়ী, হামলায় লক্ষ্যবস্তুতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।
রিয়াদে এই ঘটনার সময় সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছিল। গত কয়েক সপ্তাহে হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। এর আগে ইয়ানবুতেও আরামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছিল গোষ্ঠীটি। সে সময় সৌদি আরব জানিয়েছিল, তায়েফ ও ইয়ানবুর দিকে ছোড়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে আরামকোর স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ দেয়নি।
এরই মধ্যে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী তাইজ প্রদেশে তিন ঘণ্টার মধ্যে হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে ২০টি বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে। হুথিদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার পর তাইজ এখন সংঘাতের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে। তাদের সামরিক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে ১ হাজার ৫৪০ হুথি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছে। তবে এই হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
তাইজ প্রদেশে লড়াইয়ের মধ্যে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে ইয়েমেন নেটওয়ার্ক ফর রাইটস অ্যান্ড ফ্রিডমসের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আল-ধুবাব এলাকায় গোলাবর্ষণে ১৪ দিন বয়সী এক শিশু নিহত এবং আড়াই বছর বয়সী আরেক শিশু আহত হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, শিশুটির মাথায় স্প্লিন্টারের আঘাত লাগে। এই হামলার দায় হুথিদের ওপর দেওয়া হলেও ঘটনাটি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
সংঘাতের তীব্রতায় ইয়েমেনে মানবিক পরিস্থিতিও দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, সরকার-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের কিছু এলাকায় প্রতি চারটি পরিবারের মধ্যে তিনটি খাদ্যসংকটে পড়েছে। নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে আরও বড় সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গত শুক্রবার রয়টার্স জানিয়েছে। সম্ভাব্য অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার এবং লোহিত সাগরে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করা। সীমিত উপকূলীয় অভিযান থেকে শুরু করে ইয়েমেনের একাধিক ফ্রন্টে বড় ধরনের অভিযান—দুটি বিকল্পই বিবেচনায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সম্ভাব্য সৌদি অভিযানে যুক্ত












