সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে সহযোগিতা চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছে আবেদন করেছেন মামলার বাদী ও রুনির ভাই নওশের আলম রোমান। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে তিনি এ আবেদন জমা দেন।
চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে এই মামলাটি সরাসরি তদন্ত করার এখতিয়ার ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা বা প্রসিকিউশনের নেই। তবে ট্রাইব্যুনালের আওতাধীন অন্য কোনো মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য বা উপাত্ত পাওয়া গেলে তা পিবিআইকে দিয়ে তদন্তে সহযোগিতা করা হবে।
তিনি আরও জানান, অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সাবেক একজন সেনা কর্মকর্তা ও একজন নাট্যকর্মীর কথোপকথনের তথ্যও রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে কারও অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো দাবি করেননি চিফ প্রসিকিউটর।
এর আগে গত ৩০ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন, অন্য একটি মামলার তদন্তে কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনা করতে গিয়ে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের একজন ব্যক্তির যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত চললেও এখনো মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) করে। পরবর্তীতে র্যাব তদন্তের দায়িত্ব পেলেও দীর্ঘদিনেও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ২০২৪ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে র্যাবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে পিবিআই মামলাটির তদন্ত করছে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি ট্রাইব্যুনালের আওতাভুক্ত কি না, সে বিষয়টিও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিচার ও তদন্তে অগ্রগতির দাবিতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে।












