তানভীর আহাম্মেদ, রিপোর্টার : দিনাজপুরে ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় তৈরি পাইপগান ও চার রাউন্ড গুলিসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, দায়িত্ব পালনকালে সার্জেন্ট রূপক কুমার ঝাঁর সতর্কতা ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে অস্ত্রসহ তাদের আটক করা সম্ভব হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দিনাজপুর সদর হাসপাতালের সামনে এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিআই অমৃত সরকারের নেতৃত্বে ওই এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্ট চলছিল। এ সময় একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন পালসার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। মোটরসাইকেলটি থামানোর পর পেছনে বসে থাকা ব্যক্তির আচরণ ও নড়াচড়া সন্দেহজনক মনে হয় দায়িত্বরত সার্জেন্ট রূপক কুমার ঝাঁর।
পরে সার্জেন্ট রূপক কুমার ঝাঁ, কনস্টেবল শাহনেওয়াজ (৩৭৭) ও কনস্টেবল মেহেদী হাসান মিলে মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিদের তল্লাশি করেন। এ সময় পেছনে বসে থাকা ব্যক্তির হেফাজত থেকে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান (ওয়ানশুটারগান) এবং চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
আটক দুজন হলেন—মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা পিকআপচালক হারুন (৫৫), তিনি দপ্তরীপাড়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে এবং মোটরসাইকেলচালক মো. রতন (২০), তিনি ষষ্ঠীতলা এলাকার মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। রতন পেশায় পিকআপ গ্যারেজের কর্মী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় আটক দুজন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি এবং রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলটি থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সাধারণত ট্রাফিক চেকপোস্টে যানবাহনের কাগজপত্র যাচাই করা হলেও সার্জেন্ট রূপক কুমার ঝাঁ সন্দেহজনক আচরণ বুঝতে পেরে তল্লাশি চালান। তাঁর সতর্কতার কারণেই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।












