যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনের উদ্দেশে বারমুডা থেকে যাত্রা করা একটি চিকিৎসাবাহী বিমান নিখোঁজ হওয়ার পর নানটাকেট উপকূলের কাছে সেটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছে মার্কিন কোস্ট গার্ড। গালফস্ট্রিম জি-১০০ বিমানটিতে দুই পাইলট, দুই চিকিৎসাকর্মী, একজন রোগী ও তাঁর এক স্বজনসহ মোট ছয়জন ছিলেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নানটাকেটের দক্ষিণে আকাশ ও সমুদ্রপথে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়। পরে কোস্ট গার্ড জানায়, তারা যে ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছে, তা নিখোঁজ বিমানটির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ছয় আরোহীর সন্ধানে উদ্ধার অভিযান তখনও চলছিল।
বিমানটি কানাডাভিত্তিক ল্যাটিচিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের। এটি বারমুডার এলএফ ওয়েড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২টা ৪১ মিনিটের দিকে বিমানটি উড্ডয়ন করে এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা পর নানটাকেটের কাছে এসে নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ হারায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) স্থানীয় সময় রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে বিমানটির জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধারসংক্রান্ত সতর্কতা জারি করে। এরপর কোস্ট গার্ডের বিমান, হেলিকপ্টার, নৌযান ও দ্রুতগতির উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ বিমানটির সন্ধানে নামে।
উড্ডয়ন পর্যবেক্ষণকারী তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল। পরে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে দ্রুত নেমে প্রায় ১১ হাজার ফুটে চলে আসে এবং এরপরই রাডার ও রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বিমান নিখোঁজ হওয়ার আগে পাইলট নিয়ন্ত্রণকক্ষকে বৈদ্যুতিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন বলে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণের রেডিও যোগাযোগ থেকে জানা গেছে। এক পর্যায়ে পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগেও সমস্যা হচ্ছিল। কিছু অডিওতে পাইলটকে পরিস্থিতি দেখতে সমস্যা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করতে শোনা যায়।
ল্যাটিচিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানের চারজন ক্রু—দুই পাইলট ও দুই চিকিৎসাকর্মী—কানাডার নাগরিক। অপর দুই আরোহী ছিলেন রোগী ও তাঁর পরিবারের একজন সদস্য। তাঁদের জাতীয়তা বারমুডার বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বিমানটি বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে অবতরণের কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগে নানটাকেটের কাছে সেটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং বিমানটি আর বিমানবন্দরে পৌঁছায়নি।
প্রায় ১,৬৪৪ বর্গমাইল এলাকায় অনুসন্ধানের পর কোস্ট গার্ড ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করে। এরপরও ছয় আরোহীর সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রাখা হয়। তাঁদের পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি এবং স্বজনদের অবহিত করা হয়েছে।
বিমানটির নিখোঁজ হওয়ার কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। বৈদ্যুতিক সমস্যার কথা পাইলট জানিয়েছিলেন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বিমানটি উড়ছিল—তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন। মার্কিন ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডও ঘটনাটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে।
মার্কিন কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকবে। ছয় আরোহীর ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিশ্চিত করতে এখন নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের দিকেই নজর রয়েছে।












