সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিনের ছাত্র নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ, রাজনৈতিক চাপ এবং আসন্ন আগাম সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) তিনি প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়েন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুচিচ তাঁর দ্বিতীয় ও শেষ পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় সাত মাস আগেই পদত্যাগ করেছেন। তাঁর পদত্যাগের ফলে দেশটিতে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পথ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২৫ অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে তাঁর দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী পদে যাওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছে।
রোববার বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে সমর্থকদের উদ্দেশে বিদায়ী বক্তব্য দেন ভুচিচ। সেখানে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি তাঁর শেষ সন্ধ্যা। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
ভুচিচ ২০১৭ সালে প্রথমবার সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১৪ সাল থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ না থাকায় তিনি আগেই পদত্যাগ করে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন।
ভুচিচের পদত্যাগের সময় দেশটিতে প্রায় দুই বছর ধরে ছাত্র নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন চলছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নোভি সাদ শহরের একটি রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর এই আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে। আন্দোলনকারীরা ওই দুর্ঘটনার জন্য দুর্নীতি ও সরকারি অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে জবাবদিহি দাবি করে আসছেন। সরকার এসব অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে।
ছাত্র আন্দোলনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি সহিংসতা ও আটক করার অভিযোগও উঠেছে। ভুচিচ ও তাঁর সমর্থকেরা এসব অভিযোগের কিছু অস্বীকার করেছেন।
পদত্যাগের পর সার্বিয়ার সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দেশটির আইন অনুযায়ী ভুচিচের পদত্যাগের তিন মাসের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। ফলে অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনের পরপরই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে আগামী ২৫ অক্টোবরের সংসদ নির্বাচনে ভুচিচ নিজে প্রেসিডেন্ট পদে নয়, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে তাঁর দল এসএনএসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তাই এখন আসন্ন সংসদ নির্বাচনের ফল এবং দলটির সরকার গঠনের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।
ভুচিচের নেতৃত্বাধীন সার্বিয়া একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের লক্ষ্য ধরে রাখলেও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বজায় রেখেছে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও আসন্ন নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা সার্বিয়ার রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে।
ফলে ভুচিচের পদত্যাগে সার্বিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হলেও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অবসান হচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও অক্টোবরের সংসদ নির্বাচন—দুটি ভোটের ফলই দেশটির পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।












