মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরকে তাঁর ‘লুপ ট্যুর’ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ পপ তারকা এড শিরান। একই সঙ্গে গাজায় চলমান মানবিক সংকট নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন তিনি।
শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফিন্যান্সিয়াল ফিল্ডে কনসার্ট শুরুর আগে দর্শকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে শিরান বলেন, গত এক সপ্তাহে তাঁকে কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে এবং সেসবের ক্ষেত্রে তিনি ভুল করেছেন। এ জন্য ভক্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
শিরান বলেন, তাঁর সংগীত ও কনসার্টকে তিনি সবসময় ঐক্য, মানবতা ও আনন্দের জায়গা হিসেবে রাখতে চেয়েছেন; রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হতে চাননি। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে তিনি আর কেবল রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে দেখছেন না। গাজায় বেসামরিক মানুষ ও শিশুদের প্রাণহানি এবং ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা তাঁকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে বলে জানান তিনি।
ইসরায়েলে ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা জানিয়ে শিরান একই সঙ্গে গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়কর’ ও ‘অন্যায়সঙ্গত’ বলে বর্ণনা করেন। পশ্চিম তীরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান কাঠামোগত অবিচার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে সংঘাতের উভয় দিকের বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগের কথাও উঠে আসে।
এদিকে ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত। চলতি মাসের শুরুতে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরানের কনসার্টে পারফর্ম করার সময় ম্যাকলমোর ফিলিস্তিনের পক্ষে বক্তব্য দেন এবং ‘হিন্দস হল’ গান পরিবেশন করেন। পরে সফরের পরবর্তী কয়েকটি ভেন্যুতে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে আপত্তি ওঠে। আয়োজক প্রতিষ্ঠান মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপ জানিয়েছিল, সফরের কয়েকটি ভেন্যু ম্যাকলমোরকে মঞ্চে উঠতে দিতে রাজি ছিল না।
এরপর ম্যাকলমোরকে সফরের বাকি অংশ থেকে বাদ দেওয়া হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সফরের কয়েকজন সহশিল্পীও ম্যাকলমোরের প্রতি সংহতি জানিয়ে নিজেদের সরিয়ে নেন। ফলে ফিলাডেলফিয়ায় শিরানের কনসার্টে তাঁকে প্রায় একাই প্রধান শিল্পী হিসেবে মঞ্চে উঠতে হয়।
ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কে নিয়েছিলেন, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। ম্যাকলমোরের ভাষ্য এবং বিভিন্ন প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের চাপের কথা উঠে এসেছে। অন্যদিকে শিরান পরবর্তী বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আয়োজক ও ভেন্যু কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ছিল। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য এক নয়।
ফিলাডেলফিয়ার কনসার্টের বাইরে এ সময় ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভও হয়। অনুষ্ঠানের ভেতরেও বিতর্কের প্রভাব স্পষ্ট ছিল। তবে শিরান শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত অনুষ্ঠান চালিয়ে যান এবং নতুন সংগীতশিল্পীদের নিয়ে মঞ্চে পরিবেশন করেন।
ফিলাডেলফিয়ার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার বিতর্ক নিয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তারিতভাবে নিজের অবস্থান প্রকাশ করলেন এড শিরান। একই সঙ্গে গাজা নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্যও আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।












