পাকিস্তানে বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ডাকা ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ ও মহাসমাবেশের আগে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তিন বোনকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আটক তিন বোন হলেন—আলিমা খান, ড. উজমা খান ও নোরিন নিয়াজি। পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁদের লাহোরের কোট লখপত কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে রোববার আলিমা খানকে তাঁর লাহোরের বাসা থেকে আটক করা হয়। পরদিন সোমবার ড. উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকেও আটক করা হয়। লাহোরের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ আলী ইজাজের জারি করা আদেশে তিনজনকেই পাঞ্জাবের মেইনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার (এমপিও) আইনের আওতায় ৩০ দিনের জন্য আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আকরাম অভিযোগ করেন, পুলিশ উজমা ও নোরিনকে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আটক করে প্রথমে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে শিশুদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়। পিটিআই নেতা জুলফি বুখারীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিশ্চিত করেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
আটকের আইনি ভিত্তি হিসেবে লাহোর প্রশাসনের আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাঁদের কর্মকাণ্ডকে জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উজমা ও নোরিনের বিরুদ্ধে অতীতের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধে সম্পৃক্ততা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনসমাবেশের মাধ্যমে কর্মীদের সংগঠিত করার অভিযোগও ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো প্রশাসনের অভিযোগ; আদালতে এর চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি।
এদিকে, তিন বোনের আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। আলিমা খানের ছেলে শাহরাইজ খান তাঁর মা ও দুই খালার পক্ষে আবেদনটি করেন। আবেদনে আটকাদেশকে আইনবহির্ভূত দাবি করে তা বাতিল এবং তাঁদের অবিলম্বে মুক্তির আবেদন জানানো হয়েছে।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী মার্চের ঘোষণা দিয়েছে পিটিআই। এর আগে আলিমা খানকে আটকের সময়ও লাহোর প্রশাসন জনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করেছিল। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি সরকারিভাবে ওই কর্মসূচি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
পিটিআই এই আটককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। অন্যদিকে প্রশাসনের আদেশে জনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। ফলে তিন বোনের আটককে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে তাঁর সরকারের পতন হয়। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও দণ্ড রয়েছে। তাঁর দল ও সমর্থকেরা এসব মামলার অনেকগুলোকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।












