রাশিয়া থেকে আসা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের চালান কড়া নিরাপত্তায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪৩ মিনিটের দিকে ইউরেনিয়ামবাহী বিশেষ কার্গো বিমানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান থেকে জ্বালানি খালাসের পর শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় তা রূপপুরের উদ্দেশে পাঠানো শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনটি বিশেষ লরিতে করে ইউরেনিয়ামের চালানটি সড়কপথে রূপপুরে নেওয়া হচ্ছে। পরিবহনের সময় সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, এসআরবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। মহাসড়কে নিরাপদে বহর চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য আনা এই চালানটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক সপ্তাহ পর বাংলাদেশে পৌঁছেছে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর চালানটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সেটি নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি। পরে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর নতুন করে পরিবহনসূচি ঠিক করা হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এর আগে জানিয়েছিলেন, রাশিয়া থেকে আসা কার্গো বিমানটির রুটে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি প্রয়োজন ছিল। পাকিস্তানের অনুমতি না পাওয়ায় সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত চালানটি আটকে যায়। পরে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করে।
রূপপুর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের কার্যক্রম অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এ সময় মোট নয়টি ফ্লাইটে প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি এবং প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত প্রয়োজনের জন্য আরও ৪৮টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি আনার কথা রয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ভিভিইআর-১২০০ ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি ইতোমধ্যে চুল্লিতে স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। নতুন চালানগুলো প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কমিশনিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হবে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রূপপুর পর্যন্ত ইউরেনিয়াম পরিবহন অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। চালানটির পরিবহন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি।












