দেশের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও গত সাত মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১১ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সময়ে মোট ঋণের চাপ ৩৭ শতাংশ থেকে কমে ৩২ শতাংশে নেমেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনে নগর ও পল্লী এলাকায় সমবায় সমিতির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কর্মকৌশল নির্ধারণবিষয়ক এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তৎকালীন সরকারের পতনের সময় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ২০ বিলিয়ন ডলার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রিজার্ভ ২৬ বিলিয়ন ডলারে ছিল। এরপর গত সাত মাসে নানা অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে বিরোধী দলের বক্তব্যের সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, একজন বিরোধী দলীয় নেতা রেমিট্যান্স বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সেই আহ্বানের পরও দেশে প্রবাসী আয় আসা বন্ধ হয়নি। তাঁর দাবি, গত পাঁচ দিনে দেশে ৭ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকার রেমিট্যান্স এসেছে। প্রবাসীরা দেশের পরিস্থিতি ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বুঝেই অর্থ পাঠাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়, ১৯৯০ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং সর্বশেষ সরকারের পতনের সময় প্রবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় সংসদ ও রাজপথে বিরোধী দলের বক্তব্যের মধ্যেও অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন মীর শাহে আলম। তাঁর ভাষ্য, সংসদে বিরোধী দলের নেতারা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কথা বলছেন, আবার রাজপথে এসব সেবা নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন করছেন। তিনি এ অবস্থানকে দ্বিচারিতা বলে সমালোচনা করেন।
এ সময় জাতিসংঘের অধিবেশনে সরকারের সাফল্য আড়াল করতে একটি গোষ্ঠী রাড্ডা ও নিউগিনি প্রকল্পে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাঙচুর চালিয়ে সেসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন প্রতিমন্ত্রী। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১ হাজার ৮৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ৩২ হাজার মেগাওয়াট বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, বাসাবাড়িতে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ সরকার কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে সমন্বিত পরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় সমবায় অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নগর ও গ্রামীণ এলাকায় সমবায় সমিতির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সম্ভাবনা এবং বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
তবে রিজার্ভ, ঋণের চাপ, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনসংক্রান্ত পরিসংখ্যানগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার সর্বশেষ তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।












