যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ‘নরইস্টার’ ঝড়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রবল বাতাস, ভারী বৃষ্টি, উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাস ও বন্যায় নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, বোস্টনসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। ঝড়ে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ধীরগতির এই ঝড়টি নিউ জার্সি ও লং আইল্যান্ডের কাছাকাছি অবস্থান করে কয়েক দিন ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও তীব্র বাতাস সৃষ্টি করে। রোববার ঝড়টি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করলেও উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার ঝুঁকি অব্যাহত ছিল।
ঝড়ের সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনায় নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে একটি গাছ পড়ে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটির (NYCHA) এক কর্মী নিহত হন। ৫৬ বছর বয়সী ওই কর্মী শনিবার বিকেলে ইস্ট নিউইয়র্কের একটি পার্কিং এলাকায় হাঁটার সময় গাছের নিচে চাপা পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
একই এলাকায় আরেকটি গাছ পড়ে চারজন আহত হন। নিউইয়র্ক সিটির পার্ক বিভাগ জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরে গাছ পড়ে যাওয়ার ৩৫০টির বেশি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। তবে এসব প্রতিবেদনের কিছু একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা দেখা দেয়। নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক ও ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন এলাকায় সমুদ্রের ঢেউ বাঁধ ও সড়ক উপচে পড়ে। কোথাও কোথাও রাস্তায় পানি এতটাই বেড়ে যায় যে মানুষ নৌকা ব্যবহার করে চলাচল করেন।
উত্তর ক্যারোলিনার উপকূলেও ঝড়ের প্রভাব পড়ে। উপকূলীয় প্লাবন ও ক্ষয়ের কারণে এনসি-১২ মহাসড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে হ্যাটেরাস দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
বিদ্যুৎ সরবরাহেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেয়। পাওয়ারআউটেজ ডট ইউএসের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে উত্তর-পূর্ব ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎহীন ছিলেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য, লং আইল্যান্ড, নিউ জার্সি ও কানেকটিকাটের উপকূলীয় এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছিল বেশি।
ঝড়ের কারণে আকাশপথেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটে। প্রবল বাতাস ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষকে বাড়তি সতর্কতা নিতে হয়।
আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ের কেন্দ্র ধীরে ধীরে দুর্বল হলেও উপকূলীয় এলাকায় উচ্চ জোয়ারের সঙ্গে বন্যার ঝুঁকি আরও কিছু সময় থাকতে পারে। একই সঙ্গে নিউ জার্সি থেকে লং আইল্যান্ড পর্যন্ত এলাকায় দমকা বাতাস ও ভারী বৃষ্টির কারণে যোগাযোগব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।












