সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর তাইজের আশপাশে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়ে উঠেছে। দুই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। অন্যদিকে, সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের তাইজ শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এতে তাঁদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ, ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এদিকে, রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জোটটি জানায়, হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে শনাক্ত করে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কোথা থেকে ছোড়া হয়েছিল এবং বিস্ফোরণের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক কী, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজের পরিস্থিতিও ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা শহরটি বিভিন্ন দিক থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। অতীতেও হুতিদের অবরোধের মুখে পড়েছে শহরটি। দীর্ঘদিনের সংঘাত ও অবরোধের কারণে এখানকার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
তাইজের দক্ষিণাঞ্চলীয় যুদ্ধফ্রন্টের আবাসিক এলাকাগুলোতে বারবার হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে জাবাল সাবেরের কাছাকাছি অঞ্চল, যা শহরটির দক্ষিণাঞ্চলে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত। আবাসিক এলাকায় হামলার ফলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাত অব্যাহত থাকলে বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাইজে মানবিক পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির আশঙ্কা, সংঘাত ও অবরোধের কারণে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এমন মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিয়াদে বিস্ফোরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবির পাশাপাশি ইয়েমেনে নতুন করে লড়াই তীব্র হওয়ায় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে এসব ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য ও পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।