মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বরাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে যে গত ১৪ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালীতে ইরানি অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়ে অন্তত ৮ জন মার্কিন মেরিন সেনা গুরুতর ধোঁয়াজনিত শ্বাসকষ্ট এবং মাথায় আঘাতজনিত ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরিতে ভুগেছেন।
মার্কিন পেন্টাগন কোনো ঢাকঢোল না পিটিয়েই আহতদের তালিকায় নতুন করে ২৯ জন নৌসেনা ও ৮ জন মেরিন সদস্যের নাম যুক্ত করায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোট আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬১ জনে, যেখানে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আগের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়াতে পারার দাবি করলেও আহত মেরিন সেনাবহনকারী জাহাজের ওপর নির্দিষ্ট আঘাতের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
যদিও ওয়াশিংটন দক্ষিণ ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে তেহরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন সামুদ্রিক জলপথে জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানোই ইরানের প্রধান যুদ্ধকৌশল হয়ে উঠেছে।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ইয়ান রালবির মতে, দুর্বল কোনো সামরিক শক্তির পক্ষে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে বিশ্ববাজার ও শক্তিশালী নৌবহরকে কাঁপিয়ে দেওয়ার অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে ইরান ও তাদের মিত্ররা। ফলে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ তড়িৎ শুরু না হলেও, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা ও আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতে জাহাজ লক্ষ্য করে ইরানের এমন চোরাগোপ্তা হামলা অব্যাহত থাকবে, যার মুখে মধ্যপ্রাচ্যের নৌপথ এখন নতুন অস্থিরতার সাগরে ভাসছে।












