অধিনায়ক শাই হোপের দুর্দান্ত অপরাজিত ১৬২ রানের ইনিংসে ভর করে ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৫ উইকেটের জয় পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শনিবার নিউ চণ্ডীগড়ের পিসিএ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৫১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪৮ দশমিক ২ ওভারে ৫ উইকেটে ৩৫২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। এই জয় সত্ত্বেও তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে ভারত।
ভারতের ইনিংসের শুরুটা ছিল বিপর্যস্ত। দলীয় ৪ রানের মধ্যেই অধিনায়ক শুভমন গিল ১ এবং বিরাট কোহলি কোনো রান না করে জেডেন সিলসের শিকার হন। এরপর রোহিত শর্মা ও ঋতুরাজ গায়কোয়াড় তৃতীয় উইকেটে ১৩৭ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদ থেকে টেনে তোলেন। রোহিত ৮৫ বলে ৯২ রান করে সেঞ্চুরি থেকে আট রান দূরে থামেন। গায়কোয়াড় করেন ৬৯ বলে ৫৭ রান।
এরপর ভারতের ইনিংসের মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠেন লোকেশ রাহুল। তিনি ৮৭ বলে অপরাজিত ১২৯ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৬টি ছক্কা। এটি ছিল ওয়ানডেতে রাহুলের নবম সেঞ্চুরি এবং তাঁর ক্যারিয়ারসেরা ওয়ানডে স্কোর। শেষ দিকে নমান ধীরের ২১ বলে ৩০ রানসহ কয়েকটি কার্যকর জুটিতে ভারত ৩৫১ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়।
৩৫২ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজও শুরুতে ওপেনার জন ক্যাম্পবেলকে হারায়। তবে শাই হোপ ও আমির জাঙ্গু দ্বিতীয় উইকেটে ১০৯ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন। জাঙ্গু ৫৬ বলে ৬৭ রান করে রানআউট হন। পরে শেরফানে রাদারফোর্ড ২৪ রান করে ফেরেন।
একপ্রান্তে অবিচল থেকে হোপ এরপর কিমো পল ও অন্য ব্যাটারদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় জুটি গড়েন। পল ৩৫ বলে ৪৪ রান করে দলের রান তাড়াকে আরও এগিয়ে দেন। শেষ দিকে ভারতের বোলারদের ওপর চড়াও হন হোপ। গুডাকেশ মোটিকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত রান তুলে নির্ধারিত লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
হোপ শেষ পর্যন্ত ১৪৩ বলে ১৭টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১৬২ রানে অপরাজিত থাকেন। এটি তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২১তম সেঞ্চুরি এবং ভারতের বিপক্ষে সিরিজে টানা দ্বিতীয় শতক। তাঁর এই ইনিংস ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড গড়তে সহায়তা করে।
ম্যাচে হোপের ইনিংসকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে একটি বিষয়—তিনি পুরো ৫০ ওভার উইকেটকিপিং করার পর ব্যাটিংয়ে নেমে এমন বড় ইনিংস খেলেন। তবে তাঁর ১৬২ রানকে ওয়ানডেতে প্রথম উইকেটরক্ষক-অধিনায়কের ১৫০-এর বেশি রান হিসেবে অভিহিত করা সঠিক নয়। কুমার সাঙ্গাকারা এর আগে উইকেটরক্ষক-অধিনায়ক হিসেবে ১৬৯ রানের ইনিংস খেলেছেন। তাই হোপের অর্জনের মূল রেকর্ডটি হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ সফল ওয়ানডে রান তাড়া।
ভারতের হয়ে জেডেন সিলস ১০ ওভারে ৬২ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। অন্যদিকে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে নমান ধীর ১টি উইকেট নেন। তবে বড় লক্ষ্য দেওয়ার পরও বোলিংয়ে ভারতীয় দল হোপের প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি।
এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় পেলেও সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয় পাওয়ায় ভারত আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল। ফলে শেষ ম্যাচের জয়টি ক্যারিবীয়দের জন্য সিরিজে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর সান্ত্বনা হয়ে থাকল।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর দুই দল এবার পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে। সিরিজের প্রথম ম্যাচ হবে মঙ্গলবার লখনউয়ে।












