১১ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে চীনা প্রেসিডেন্ট ও তাঁর স্ত্রী পেং লিইউয়ানকে স্বাগত জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বাগত জানানোর ঘটনা বিরল।
শি জিনপিংকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানাতে সামরিক আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়। ২১ বার তোপধ্বনি ও সামরিক বিমানের ফ্লাইওভারের মধ্য দিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানো হয়। পরে ট্রাম্প ও শি জিনপিং ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজ ত্যাগ করেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি জিনপিংয়ের এই সফর তিন দিনের এবং দুই দেশের সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে বিরল খনিজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে বাণিজ্য ও শুল্কনীতির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইরান সংকট এবং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে তাইওয়ানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চীন তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ দিতে পারে।
তাইওয়ান ইস্যুতে চীন দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী। এ কারণে শি-ট্রাম্প বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যু দুই দেশের আলোচনার অন্যতম সংবেদনশীল বিষয় হতে পারে।
বাণিজ্যিক সম্পর্কও বৈঠকের বড় বিষয়। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ নভেম্বরের দিকে শেষ হওয়ার কথা থাকায় সেটি আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কর্মকর্তারা এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে আলোচনা করেছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি নিয়ে সংলাপের একটি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে চীন তার এআই প্রযুক্তির বিকাশে মার্কিন বিধিনিষেধ মেনে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ইরান সংকটও শি-ট্রাম্প আলোচনায় স্থান পেতে পারে। ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা চীনের অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এরই মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
শি জিনপিংয়ের সফরের আগে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি নিয়েও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা অব্যাহত থাকলে শুল্ক ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা এড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এদিকে শি জিনপিংয়ের সফর ঘিরে তাইওয়ান সরকারও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তাইওয়ানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে।
বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির নেতার এই বৈঠক এমন সময়ে হচ্ছে, যখন বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নতুন সমীকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলে শি-ট্রাম্প বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে অগ্রগতি হয় কি না, সেদিকেই এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর।












