তানভীর আহাম্মেদ, রিপোর্টার: একপাশে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত আর আজানের ধ্বনি, ঠিক তার উল্টো পাশেই সনাতন ধর্মের উলুধ্বনি ও পূজার্চনা। এক দেওয়ালের দুই পাশে দুই ধর্মের উপাসনালয়। দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এমন এক অনন্য ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
উপজেলার নিজপাড়া ইউনিয়নের নখাপাড়া এলাকায় ঢেপা নদীর তীরে অবস্থিত সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এই সম্প্রীতির মেলবন্ধন। সরকারের এই মানবিক উদ্যোগে সেখানে পুনর্বাসিত হয়েছে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো। বিগত প্রায় ৬ বছর ধরে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৫০টি মুসলিম পরিবার এবং ২২টি সনাত
ন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী পরিবার কোনো রকম বৈষম্য বা বিরোধ ছাড়াই পরম সৌহার্দ্যে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে।
যুগ যুগ ধরে চলে আসা বাঙালি সংস্কৃতির এই ঐতিহ্যবাহী সহাবস্থানকে আরও টেকসই করতে স্থানীয় নিজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান আনিস এবং এলাকাবাসী যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁদেরই সার্বিক সহযোগিতায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের পূর্ব পাশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে একটি দুর্গা মন্দির ও শ্মশান ঘাট। আর ঠিক তার বিপরীত দিকে, পশ্চিম পাশে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন ‘কুয়েতি মসজিদ’।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এখানে কোনো রকম ধর্মীয় সংকীর্ণতা নেই। আজান ও নামাজের সময় মন্দিরে ঢাক-ঢোল বা শব্দের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসবগুলোতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন এগিয়ে আসেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে। একে অপরের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়ে তারা প্রমাণ করেছেন—ধর্ম যার যার, উৎসব ও সম্প্রীতি সবার।
একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দিরের এই সহাবস্থান কেবল বীরগঞ্জেই নয়, পুরো দেশের জন্যই একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বাসিন্দাদের এই সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্যোগ প্রমাণ করে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকলে যেকোনো সমাজকেই একটি সুন্দর ও অসাম্প্রদায়িক শান্তিনিকেতনে রূপান্তর করা সম্ভব।












