রাজধানী ঢাকায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও কাঠামোর আওতায় অটোরিকশা চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানিয়েছেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে খুব দ্রুত একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের খনন ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
ঢাকার বর্তমান ট্রাফিক পরিস্থিতি ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কথা তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে নগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত নীতিমালার আওতায় প্রধান সড়ক ও জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অটোরিকশার চলাচল সুশৃঙ্খলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত চালকদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অটোরিকশাচালকদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। তবে সামগ্রিক নাগরিক স্বার্থে নগরের বর্তমান অব্যবস্থাপনা দূর করতে সবাইকে ঐকমত্যে আসতে হবে।
সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে বাস্তবমুখী প্রক্রিয়ায় উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে ঢাকা শহরকে অকার্যকর হতে দেওয়া হবে না।
এদিকে ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন সড়কমন্ত্রী। তিনি জানান, লেকের খনন, সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ সংরক্ষণে মোট ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সাংস্কৃতিক ও মননশীল চর্চার সুযোগ বাড়াতে একটি পাঠাগার ও ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এর আগে ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদ ও ডাম্পিং বন্ধ না হলে ঢাকা অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন চালক ও মালিক সমিতির নেতারা। একই সঙ্গে বৈধ লাইসেন্স ও রোড পারমিট দেওয়ার দাবিও জানান তারা।
চালক ও মালিকদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, চার্জিং স্টেশনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। এসব দাবিতে সোমবার রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধ করা হয়। এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে কাকরাইলে ভিক্টর ক্লাসিক গোল্ড সিটি পরিবহনের একটি বাসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া কর্মসূচি অমান্য করে যান চালানোর চেষ্টা করায় কয়েকজনকে হেনস্তা করার অভিযোগও ওঠে।
সরকারের নতুন নীতিমালায় অটোরিকশাচালকদের জীবিকা, নগরের যানজট পরিস্থিতি এবং নাগরিকদের চলাচলের সুবিধার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য তৈরি করা হবে, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।










