জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সরাসরি কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে আইএমএফের কোনো বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আইএমএফের সাধারণ নীতির মধ্যে অতিরিক্ত সরকারি ভর্তুকি কমানোর বিষয়টি রয়েছে। তবে সংস্থাটির সব নির্দেশনা সরকার হুবহু অনুসরণ করে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সবসময় পূর্ণ সমর্থন না থাকলেও জনগণের স্বার্থে সরকার এসব কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তাই জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্তকে আইএমএফের কোনো সরাসরি শর্তের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, শুধু তরল জ্বালানি নয়, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতেও সরকারের ভর্তুকি রয়েছে। এসব খাতে ভর্তুকির সম্মিলিত চাপ রাষ্ট্রের ওপর বড় ধরনের আর্থিক বোঝা তৈরি করছে। অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়মেই এই চাপ কমানো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
তথ্য উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার এখন বিভিন্ন খাতে ভর্তুকির পরিমাণ পর্যালোচনা করে কোথায় কতটা ব্যয় কমানো সম্ভব, সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তাঁর দাবি, জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় কোনো বিদেশি সংস্থার নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ নয়; বরং জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার অভ্যন্তরীণ নীতিগত উদ্যোগ।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের বাজারে সব ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দামে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আর্থিক চাপের প্রেক্ষাপটে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে ভর্তুকির চাপ কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি পাচারের ঝুঁকিও মোকাবিলা করা হবে।
তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন ও পণ্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।












