টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের ১১টি জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে মাঠে কাজ করছে বাহিনীটি।
রোববার (১২ জুলাই) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলার মোট ৯০টি পয়েন্টে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বান্দরবানের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা থেকে এখন পর্যন্ত ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে এবং ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।
এছাড়া বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কে উপড়ে পড়া গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে বিজিবি। কক্সবাজারের নাইক্ষ্যংছড়িতে ভূমিক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিতে পড়া একটি স্টিলের সেতু রক্ষায়ও জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, দুর্যোগের সময় দ্রুত সাড়া, সমন্বিত উদ্যোগ এবং মানবিক সহায়তাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির অন্যতম দায়িত্ব।
পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্যাদুর্গত মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসা এবং অন্যান্য মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।