টানা রাতভর বর্ষণ ও সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরের প্রবল বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। মাত্র তিন ঘণ্টার ভারী বর্ষণেই প্রধান সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
সকাল থেকেই নগরীর অধিকাংশ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। কর্মস্থলে যেতে চরম দুর্ভোগে পড়েন অফিসগামী মানুষ। কাকভেজা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যেতে দেখা যায়। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো পরিবার। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও কর্মজীবীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকের ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পানিতে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী পানি মাড়িয়ে এবং কেউ কেউ নৌকায় করে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছান।
নগরীর জিলা স্কুল সড়ক, পুলিশ লাইনস, রেসকোর্স, চর্থা, ঠাকুরপাড়া, বিসিক শিল্পনগরী, গোবিন্দপুর, মুরাদপুর ও শহরতলীর ছায়াবিতান এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং নিচু স্থাপনায় পানি ঢুকে পড়ে। অনেক স্থানে ড্রেন উপচে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
এদিকে জলাবদ্ধতার সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনভর আরও ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নগরীতে জলাবদ্ধতা ও জনভোগান্তি আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, খাল-নালা দখল এবং দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই কুমিল্লা নগরীতে একই ধরনের জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। তারা দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।