যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১৯৯৩ সালে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন সাবেক মডেল ও মিস সুইজারল্যান্ড প্রতিযোগিতার সাবেক প্রতিযোগী বিয়াত্রিস কিউল। তাঁর দাবি, নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতাসংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে পরিচয়ের পর ট্রাম্প তাঁকে হোটেলের একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। তবে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত একটি তদন্ত প্রতিবেদনে কিউলের অভিযোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন অপরাধে দণ্ডিত প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের অতীত সম্পর্ক ও তাঁদের পরিচিতির প্রসঙ্গও এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবরে কিউল প্রথম প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন, ১৯৯৩ সালে ট্রাম্প তাঁকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন। সে সময় তাঁর বক্তব্য ছিল, ট্রাম্প তাঁকে চুমু দেওয়ার চেষ্টা করেন, পোশাক ওপরে তোলার চেষ্টা করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট কর্মীদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
কিউলের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে তাঁর বয়স ছিল ২৪ বছর। ওই সময় একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন প্লাজা হোটেলের মালিক ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। কিউলের দাবি, ট্রাম্প তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা এবং নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
তাঁর অভিযোগ, ওই অনুষ্ঠানের পর এপস্টেইনের সঙ্গেও তাঁর পরিচয় হয়। এপস্টেইন নিজেকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং তাঁকে মার-আ-লাগোতে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বলে কিউল দাবি করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে কিউলের বর্ণনা অনুযায়ী, পরে ট্রাম্পের এক সহযোগীর মাধ্যমে তাঁকে হোটেলের একটি কক্ষে দেখা করতে বলা হয়। সেখানে যাওয়ার পর ট্রাম্প পেছন থেকে তাঁকে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এ সময় তাঁর পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তপাত ও কালশিটে দাগ হয়।
কিউলের অভিযোগ, ঘটনার পর ট্রাম্প তাঁকে বিষয়টি গোপন রাখার জন্য চাপ দেন এবং ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কথা আবারও উল্লেখ করেন। তবে এসব বিবরণ কিউলের অভিযোগ এবং ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে উপস্থাপিত বক্তব্যের ভিত্তিতে জানা গেছে; আদালতে এসব অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে ২০২৪ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিউল বলেছিলেন, ট্রাম্প তাঁকে চুমু দেওয়ার পাশাপাশি জোর করে তাঁর পোশাক ওপরে তোলার চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় তিনি প্রতিরোধ করার পর পরিস্থিতি থেমে যায় বলে জানিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক অভিযোগে ঘটনার আরও গুরুতর বিবরণ উঠে এসেছে।
কিউলের বক্তব্যের বিষয়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ট্রাম্পের সাফল্য থেকে জনগণের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা। ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে জানার পর তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছিল। তবে কিউলের অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদালতের রায় বা অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠাকারী বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে ট্রাম্প ও এপস্টেইনের অতীত যোগাযোগ এবং আরও কয়েকজন নারীর অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এসব অভিযোগের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে হোয়াইট হাউস অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এ প্রতিবেদন প্রকাশের ফলে ট্রাম্প ও এপস্টেইনকে ঘিরে বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে কিউলের অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট প্রমাণ এবং আইনি পরিণতি নির্ধারণের জন্য স্বাধীন তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।