সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বিশ্বের প্রথম ‘গোল্ড স্ট্রিট’ বা স্বর্ণের রাস্তা চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ের নতুন গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে এই বিশেষ আকর্ষণ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ইথরা দুবাই। প্রকল্পটির বিস্তারিত তথ্য পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি আমিরাত গোল্ড ডিস্ট্রিক্টের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছে। নতুন এই বাণিজ্যিক এলাকাকে সোনা, গয়না ও স্বর্ণভিত্তিক বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দুবাইয়ের দীর্ঘদিনের স্বর্ণবাণিজ্যের ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ঘোষণায় গোল্ড স্ট্রিটকে স্বর্ণবাণিজ্যের একটি বিশেষ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে রাস্তার নির্মাণকাজে ঠিক কীভাবে সোনা ব্যবহার করা হবে, এর নকশা কেমন হবে এবং প্রকল্পটি কবে নাগাদ চালু হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
স্বর্ণবাণিজ্যে দুবাইয়ের অবস্থান দীর্ঘদিনের। খুচরা বিক্রয় থেকে শুরু করে পাইকারি বাণিজ্য, স্বর্ণমুদ্রা এবং বিনিয়োগ—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই শহরটি আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। গোল্ড ডিস্ট্রিক্টে এসব কার্যক্রমকে একটি নির্দিষ্ট এলাকায় আরও সমন্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই এলাকায় ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি খুচরা দোকান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখানে স্বর্ণালংকার কেনাবেচা, পাইকারি লেনদেন এবং বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন গয়নার ব্র্যান্ডের উপস্থিতিও বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
গোল্ড স্ট্রিটে জওহারা জুয়েলারি, মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস, আল রোমাইজান ও তানিশকের মতো ব্র্যান্ডের ফ্ল্যাগশিপ বিক্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৪ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি বড় ফ্ল্যাগশিপ জুয়েলারি স্টোরের পরিকল্পনাও রয়েছে, যেটিকে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম গয়নার দোকান হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
দুবাইয়ের অর্থনীতি ও পর্যটন বিভাগের অধীন দুবাই ফেস্টিভ্যালস অ্যান্ড রিটেইল এস্টাব্লিশমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ আল খাজা বলেন, দুবাইয়ের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সোনা গভীরভাবে জড়িত। এটি শহরটির ঐতিহ্য, সমৃদ্ধি ও উদ্যোগী মনোভাবের প্রতীক। তাঁর মতে, নতুন এই গন্তব্যের মাধ্যমে দুবাই একদিকে যেমন নিজের ঐতিহ্যকে উদ্যাপন করবে, অন্যদিকে সৃজনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের নতুন সুযোগও তৈরি করবে।
স্বর্ণবাণিজ্যকে কেন্দ্র করে নতুন এই উদ্যোগ দুবাইয়ের পর্যটন ও খুচরা বাজারে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে স্বর্ণালংকারের ক্রেতা, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একই স্থানে বিভিন্ন ধরনের সেবা ও বাণিজ্যিক সুযোগ তৈরি হলে শহরটির স্বর্ণবাজার আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৫৩ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সোনা রপ্তানি করেছে। সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভারত, হংকং ও তুরস্ক ছিল দেশটির প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে। ওই সময়ে আমিরাত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভৌত স্বর্ণবাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছিল।
সব মিলিয়ে গোল্ড ডিস্ট্রিক্ট ও প্রস্তাবিত গোল্ড স্ট্রিট দুবাইয়ের স্বর্ণবাণিজ্য, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে প্রকল্পটির বাস্তব রূপ, উদ্বোধনের সময়সূচি এবং সোনার ব্যবহারসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের পরই এর পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।