মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের শুরুতেই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। উইকেটে টার্নের পাশাপাশি অসমান বাউন্স থাকায় ব্যাটারদের সতর্ক হয়ে খেলতে হয়েছে। ক্যারিবীয় পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের বিপরীতে শুরুটা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করলেও প্রথম সেশনেই দুটি উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রথম সেশনে ২৯ ওভার ব্যাট করে ২ উইকেট হারিয়ে ৯৬ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। ওপেনার সাদমান ইসলাম ৮০ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ক্রিজে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত করেছেন ২০ বলে ১৫ রান। প্রথম সেশনে উইকেট হারালেও এই জুটি লাঞ্চের আগে দলকে কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থানে নিয়ে যায়।
মিরপুরের উইকেটে স্পিনারদের সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশায় দুই দলই নিজেদের একাদশে তিনজন করে স্পিনার রেখেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার রোস্টন চেজের কয়েকটি বল আচমকা লাফিয়ে টার্ন করেছে। অন্যদিকে জোমেল ওয়ারিকনের কিছু বল নিচু হয়ে এসেছে, যা ব্যাটারদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
শুধু স্পিনাররাই নন, পেসাররাও উইকেট থেকে সহায়তা পেয়েছেন। নতুন বলে বাড়তি বাউন্স ও সুইং কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের চাপে রাখেন ক্যারিবীয় পেসাররা। এমন পরিস্থিতিতে শুরু থেকেই বল নির্বাচন ও শট খেলার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন ছিল স্বাগতিকদের।
তবে সপ্তম ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জেডন সিলসের অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ২৩ বলে মাত্র ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। নতুন বলে ক্যারিবীয় বোলারদের চাপ সামলাতে না পারায় শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশের ইনিংস।
তানজিদের বিদায়ের পর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সাদমান ইসলামের সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক। শুরুতে সময় নিয়ে ব্যাটিং করলেও ইনিংস বড় করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। স্পিনার জোমেল ওয়ারিকনের বলে ক্রিজ ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসে বড় শট খেলতে যান মুমিনুল। কিন্তু ব্যাটে ঠিকমতো সংযোগ না হওয়ায় বলটি বাতাসে উঠে যায়। মিড-অফে সহজ ক্যাচ নেন শামার জোসেফ।
মুমিনুলের বিদায়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে। তাঁর আউট হওয়ার ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ উইকেটে কিছুটা সময় কাটিয়ে সেট হওয়ার পরও তিনি অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নেন। প্রথম উইকেট হারানোর পর সাদমানের সঙ্গে গড়ে ওঠা জুটি আরও বড় করার সুযোগ ছিল তাঁর সামনে।
প্রথম সেশনের বাকি সময়ে সাদমান দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ইনিংস ধরে রাখেন। তাঁর সঙ্গে শান্তর জুটি লাঞ্চের আগে বাংলাদেশকে ৯৬ রানে পৌঁছে দেয়। তবে মিরপুরের উইকেটে টার্ন ও অসমান বাউন্স অব্যাহত থাকলে পরবর্তী সেশনেও ব্যাটারদের জন্য কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের লক্ষ্য হবে উইকেট হাতে রেখে রান বাড়ানো এবং সাদমানের ভালো শুরুকে বড় ইনিংসে রূপ দেওয়া। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চাইবে উইকেটের সহায়তা কাজে লাগিয়ে দ্রুত আরও উইকেট তুলে নিতে।