ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর)। ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন। এরই অংশ হিসেবে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এসব সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বুধবার সকালে ঠাকুরগাঁও বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের হাতে নির্বাচনি সরঞ্জাম তুলে দেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তিনটি উপজেলায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও জানান, নির্বাচনি সরঞ্জাম যাতে নিরাপদে নির্ধারিত কেন্দ্রে পৌঁছায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ উপনির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডা. খাদেমুল ইসলাম হাতপাখা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. আবদুল আলীম নিজামী বটগাছ এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক ডাব প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। বিপুলসংখ্যক ভোটারের অংশগ্রহণে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী, ভোটার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখন সবার নজর ভোটগ্রহণের দিনের পরিস্থিতি, ভোটারদের উপস্থিতি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার দিকে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।