মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে শুরুতেই চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। নতুন বলে গতি ও সুইং কাজে লাগিয়ে স্বাগতিক ব্যাটারদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছেন ক্যারিবীয় পেসার জেইডেন সিলস ও শামার জোসেফ। দলীয় ১০ রানে ওপেনার তানজিদ তামিমের বিদায়ের পর সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক মিলে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ভালো শুরু পেয়েও অহেতুক শট খেলতে গিয়ে উইকেট হারিয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল।
দলীয় ৬১ রানে দ্বিতীয় উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। প্রথম উইকেট দ্রুত হারানোর পর সাদমান ও মুমিনুলের জুটি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই এগোচ্ছিল। দুজনের ব্যাটিংয়ে ইনিংস ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান আক্রমণে আসার পরই ছন্দপতন ঘটে মুমিনুলের।
ওয়ারিকানের বল মোকাবিলা করতে ক্রিজ ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসে মিড-অফের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন মুমিনুল। তবে শটটি ঠিকমতো খেলতে না পারায় বল বাতাসে উঠে যায়। শেষ পর্যন্ত ক্যাচটি তালুবন্দী করেন শামার জোসেফ। ৫১ বলে দুটি চারের সাহায্যে ২৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
মুমিনুলের বিদায়ে ভাঙে সাদমানের সঙ্গে তাঁর ৫৯ রানের জুটি। শুরুতে তানজিদকে হারানোর পর এই জুটিই বাংলাদেশের ইনিংসে কিছুটা স্থিতি এনে দিয়েছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মুমিনুলের এমন শট খেলে আউট হওয়া দলের জন্য ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যক্তিগতভাবে অবশ্য এই ইনিংসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মুমিনুল। বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক অর্জন করেন তিনি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর মোট রান দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৯৩।
এর আগে ইনিংসের শুরুতেই বিদায় নেন তানজিদ তামিম। জেইডেন সিলসের অফ স্টাম্পের বাইরের দিকে বেরিয়ে যাওয়া বল কাভার দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল চলে যায় দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা জাস্টিন গ্রিভসের হাতে। মাত্র ৭ রান করে ফেরেন তানজিদ।
নতুন বলে ক্যারিবীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হয়েছে। দুই উইকেট হারানোর পর সাদমান ইসলাম ও পরবর্তী ব্যাটারদের ওপরই এখন ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব। শুরুতে উইকেট হারানোর ধাক্কা সামলে বাংলাদেশ কতটা বড় সংগ্রহ গড়তে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।