জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে আকস্মিক বিপর্যয়ের কারণে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে ৫ হাজার ৩৭০ মেগাওয়াট। এতে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) আশা, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ১০টার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে ফিরে আসবে।
পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১৪ হাজার ৭১৯ মেগাওয়াট। কিন্তু কয়েকটি বড় কয়লাভিত্তিক ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুপুর ১টায় উৎপাদন নেমে আসে ৯ হাজার ৩৪৯ মেগাওয়াটে। অর্থাৎ মাত্র এক ঘণ্টায় উৎপাদন কমে যায় ৫ হাজার ৩৭০ মেগাওয়াট।
এ আকস্মিক উৎপাদন ঘাটতির প্রভাব পড়ে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায়। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেয় এবং গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন পুনরায় চালু ও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া চলছে। কয়েকটি ইউনিট ইতোমধ্যে উৎপাদনে ফিরেছে এবং কিছু কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনের দিকে এগোচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাত ১০টার মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে। তবে গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে সৃষ্ট ঘাটতি কাটিয়ে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কতটা সময় লাগবে, তা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন পুনরুদ্ধার এবং সঞ্চালনব্যবস্থার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারিগরি কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানান জহুরুল ইসলাম। রাষ্ট্রায়ত্ত সঞ্চালন সংস্থা পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি বিষয়টি তদন্ত করে কারণ জানাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গ্রিড পরিচালনাকারীরা বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজে ব্যস্ত থাকায় দুপুর ৩টার পর প্রতি ঘণ্টার উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করা সম্ভব হয়নি। তবে দুপুর ৩টায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৮২৫ মেগাওয়াটে। এতে উৎপাদন কিছুটা পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিপর্যয়ের বড় প্রভাব পড়ে। দুপুর ১২টায় এসব কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছিল। দুপুর ১টায় তা কমে দাঁড়ায় ১ হাজার ৭৩৪ মেগাওয়াটে। অর্থাৎ এক ঘণ্টায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায় ২ হাজার ৬৪৮ মেগাওয়াট, যা প্রায় ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ।
একই সময়ে বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনেও বিঘ্ন ঘটায় জাতীয় গ্রিডে সামগ্রিক উৎপাদন দ্রুত কমে যায়। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয় এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরুদ্ধার ও সঞ্চালনব্যবস্থা স্বাভাবিক করার কাজ চললেও বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটগুলো পর্যায়ক্রমে চালু হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে।