যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়ে কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং মার্কিন স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে চলমান সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে আইনপ্রণেতাদের অবহিত করেন।
চিঠিতে ট্রাম্প জানান, গত ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, সেনা সদস্য এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সাংবিধানিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে তার প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো–এর এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নিরাপত্তা জোরদার করা হবে এবং ওই জলপথে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নতুন নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব অভিযান আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার অংশ।
অন্যদিকে, কংগ্রেসে এই সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীয়তা ও বৈধতা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধসংক্রান্ত ক্ষমতা এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মতভেদও দেখা দিয়েছে।
চিঠির শেষাংশে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরান থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে।