সরকারের সমালোচনা করার কারণে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ময়মনসিংহের নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তারের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় নারী শক্তি আয়োজিত এ মানববন্ধনে সাথী আক্তারের মুক্তি দাবি করা হয়। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, সাথী আক্তারকে নিরাপত্তা দেওয়ার পরিবর্তে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর ভাষ্য, সরকার চায় বিরোধী দলের নেতাকর্মীসহ সবাই সরকারের অবস্থানের সঙ্গে মিল রেখে কথা বলুক।
আখতার হোসেন আরও দাবি করেন, সরকারের সমালোচনা করার কারণে ৩০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এ ধরনের গ্রেপ্তারের ঘটনাকে মানবাধিকারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, সরকারের সমালোচনা কিংবা ভিন্নমত প্রকাশের কারণে কাউকে হয়রানি করা হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মানববন্ধনে জাতীয় নারী শক্তির নেত্রীরাও বক্তব্য দেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার উদ্দেশ্যে সরকার নারীদের গ্রেপ্তার করছে এবং সমালোচকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। বক্তব্যে তাঁরা সাথী আক্তার, আশরাফুল ইসলাম স্বপনসহ আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও তোলেন।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তার, জামিন না পাওয়া এবং সাইবার সুরক্ষা আইনসহ বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা হচ্ছে। তাঁরা বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসনের তুলনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধন থেকে সাথী আক্তারসহ আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের স্বচ্ছ ও আইনসম্মত নিষ্পত্তি এবং নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
তবে সাথী আক্তার ও অন্যদের গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং মামলার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি ও আইনি পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।