একসময় ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের ছিল রাজকীয় উপস্থিতি। রোনালদো নাজারিও, রিভালদো, রোনালদিনিয়ো ও কাকার মতো তারকারা নিজেদের নৈপুণ্যে বিশ্ব ফুটবলকে মুগ্ধ করেছেন। কিন্তু সর্বশেষ ২০০৭ সালে কাকা ব্যালন ডি’অর জেতার পর ১৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আর কোনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার এই পুরস্কার জিততে পারেননি।
সম্প্রতি লন্ডনে অনুষ্ঠিত ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে ব্রাজিলের সাবেক তারকা রোনালদো নাজারিও পুরস্কার তুলে দেন। বড় পর্দায় তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের মুহূর্তগুলো দেখানো হলেও বর্তমান প্রজন্মের ব্রাজিলিয়ানদের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক।
এবারের ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও মার্কিনিওস। কিন্তু সেরা দশে জায়গা পাননি কেউই। ভিনিসিয়ুস হয়েছেন ১৭তম। এর আগে ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় হয়েছিলেন তিনি।
মেসি-রোনালদোর আধিপত্য
ব্রাজিলের এই দীর্ঘ খরার পেছনে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘদিনের আধিপত্যও বড় কারণ। ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই দুই তারকা ভাগাভাগি করে জেতেন নয়টি ব্যালন ডি’অর। এ সময়ে ব্রাজিলের নেইমার দুবার তৃতীয় হলেও পুরস্কারটি জিততে পারেননি।
কাকার আগে রোনালদো নাজারিও ১৯৯৭ ও ২০০২ সালে, রিভালদো ১৯৯৯ সালে এবং রোনালদিনিয়ো ২০০৫ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। তাঁদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা পরবর্তী প্রজন্ম ধরে রাখতে পারেনি।
বয়সভিত্তিক ফুটবলে সংকট
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রাজিলের ফুটবলে সৃজনশীল মিডফিল্ডার, ফুলব্যাক ও সেন্টার ফরোয়ার্ড তৈরির ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে খেলোয়াড় গড়ে তোলার কাঠামোগত দুর্বলতাও এর অন্যতম কারণ।
ব্রাজিলে এখনো রাফিনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এস্তেভাওয়ের মতো প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছেন। তবে প্রতিভার পাশাপাশি পুরো মৌসুমে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, বড় ম্যাচে নির্ণায়ক ভূমিকা এবং দলীয় শিরোপা জয়ও ব্যালন ডি’অর জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, ব্রাজিলের ফুটবলে প্রতিভার অভাব নয়, বরং সেই প্রতিভাকে বিশ্বসেরার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ। বয়সভিত্তিক ফুটবলের উন্নয়ন ও সৃজনশীল খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে পারলে ভবিষ্যতে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে আবারও ব্রাজিলিয়ানদের আধিপত্য ফিরতে পারে।