ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ডাব প্রতীকের প্রার্থীর পোলিং এজেন্টরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, “ডাব মার্কার এজেন্টরা সবাই জামায়াতের এজেন্ট হয়ে গেছে। জামায়াতের এজেন্টরা ডাব মার্কার কাগজ নিয়ে ঢুকে গেছে।” তবে তাঁর এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা জামায়াতের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির এই প্রার্থী। এ সময় তিনি বড় ব্যবধানে বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁর মতে, নির্বাচন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হবে। ভোটারদের মধ্যে কোনো শঙ্কা দেখছেন না বলেও জানান তিনি।
মির্জা ফয়সল আমীন আরও বলেন, প্রশাসন পর্যালোচনা করে কোনো ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলে সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সকালে আবহাওয়া কিছুটা বৈরী থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটকেন্দ্রগুলোতে সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয় নির্বাচন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী—এই তিনটি প্রশাসনিক এলাকায় মোট ১৮৫টি কেন্দ্রে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। এ ছাড়া ডাকযোগে ভোট দেওয়ার জন্য ২৪৯ জন পুরুষ ও ৩৮ জন নারীসহ মোট ২৮৭ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের নিবন্ধন করেছেন।
নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন প্রার্থীর অভিযোগের পাশাপাশি ভোটের পরিবেশ, কেন্দ্রভিত্তিক পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের ভূমিকা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। মির্জা ফয়সল আমীনের অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় বিষয়টি তাঁর বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য।