সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে সত্যিকার অর্থে ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভয়ভীতি ও পক্ষপাতমূলক আচরণ পরিহার করে সমাজের অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই পুলিশের প্রতি মানুষের বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট উপপরিদর্শক (এসআই) ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সারদার প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং সুসজ্জিত প্যারেড পরিদর্শন করেন। ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের ১৬২ জন প্রশিক্ষণার্থী কুচকাওয়াজে অংশ নেন।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুলিশকে দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা পালন করতে হবে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা এবং নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা পুলিশের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। বিশেষ করে অসহায়, নির্যাতিত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্ব ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে নির্বাচিত প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পদক ও স্মারক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচে সামগ্রিকভাবে শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ওমর ফারুক। একাডেমিক ফলাফলে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন। মাঠপর্যায়ের দক্ষতায় সেরা হন সাইফুল ইসলাম এবং শুটিংয়ে কৃতিত্বের জন্য শ্রেষ্ঠ শুটারের পুরস্কার পান মো. আসাদুজ্জামান।
অন্যদিকে ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচে সামগ্রিকভাবে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। একাডেমিক শাখায় শ্রেষ্ঠ হন মো. বোরহানুল ইসলাম। শারীরিক ও মাঠপর্যায়ের দক্ষতায় সেরা হন দেওয়ান গোলাম রসুল এবং শুটিংয়ে শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার লাভ করেন মো. কামাল গনি।
ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষ করা এসব নবীন কর্মকর্তা এবার মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে যোগ দেবেন। শিক্ষানবিশ সার্জেন্টরা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষানবিশ উপপরিদর্শক হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত হবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান। এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট নাগরিক এবং সদ্য প্রশিক্ষণ শেষ করা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পেশাগত সততা, নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনই হবে তাঁদের দায়িত্ব পালনের অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।