ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। বিরোধী পক্ষের উত্থাপিত অভিযোগগুলো নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে খতিয়ে দেখছে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থাপিত ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা থেকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সিইসি।
এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে চার নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিব উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
পর্যবেক্ষণের বিষয়ে সিইসি জানান, আসনটির ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার মতো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। আবহাওয়া অনুকূলে এলে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও দায়িত্ব পালন ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতির ওপর কমিশনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
সিইসি আরও বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জনগণের সামনে স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান রাখতে চায় কমিশন। স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ যাতে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে, সে বিষয়েও সতর্ক রয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনী পরিবেশে সংঘাত ও উত্তেজনা এড়িয়ে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভোটকে নাগরিকদের অংশগ্রহণমূলক উৎসবে পরিণত করা এবং দেশে সুস্থ নির্বাচনী সংস্কৃতি গড়ে তোলাই কমিশনের লক্ষ্য বলেও জানান সিইসি।
তবে বিরোধী পক্ষের অভিযোগগুলোর বিষয়ে কমিশনের পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি ও অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা হলে নির্বাচনের সার্বিক চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।