বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে কোচ বা মেন্টর হিসেবে কাজে লাগানো যায় কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে রাজি হননি ওয়েস্ট ইন্ডিজের জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ। সাকিবের অনুপস্থিতির পেছনের জটিলতা সম্পর্কে বিস্তারিত না জানায় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তবে সাবেক ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন এই ধারাভাষ্যকার।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের জার্সিতে সর্বশেষ খেলেছিলেন সাকিব। এরপর রাজনৈতিকসহ নানা কারণে দেশে ফিরতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। চলমান টেস্ট সিরিজে ধারাভাষ্য দিতে আসা বিশপের কাছে সাকিবকে মেন্টর হিসেবে কাজে লাগানোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে বিশপ বলেন, ‘সাকিব কেন এখানে নেই, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানার মতো অবস্থানে আমি নেই। সংবাদমাধ্যমে যা পড়েছি, তার বাইরে বিষয়টির জটিলতা সম্পর্কে আমার জানা নেই। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’
সাকিব প্রসঙ্গে সরাসরি মন্তব্য না করলেও নিজ দেশের সাবেক ক্রিকেটারদের উদাহরণ দিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন বিশপ।
তিনি বলেন, ‘ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্রায়ান লারা, কার্টলি অ্যামব্রোস, মাইকেল হোল্ডিং, জোয়েল গার্নার ও গর্ডন গ্রিনিজের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটার রয়েছেন। ক্যারিবীয় ক্রিকেট যদি পোলার্ড, ব্রাভো কিংবা ড্যারেন স্যামির মতো ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে, তাহলে আমাদের ক্রিকেট আরও সমৃদ্ধ হবে। তারা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, আবার স্কুলপর্যায়ের শিশুদেরও শেখাতে পারেন। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেটব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে।’
সাবেক ক্রিকেটারদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও অর্জিত জ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও জোর দেন বিশপ।
তিনি আরও বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে যারা অভিজ্ঞতা ও সাফল্য অর্জন করেছেন, তাদের জ্ঞান যেন হারিয়ে না যায়। বাংলাদেশেও এই ধারাটা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। ক্যারিবীয় অঞ্চলেও আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি।’
বিশপের বক্তব্যে উঠে এসেছে, সাবেক তারকাদের অভিজ্ঞতা জাতীয় দল থেকে শুরু করে স্কুলপর্যায়ের ক্রিকেট পর্যন্ত কাজে লাগানো গেলে খেলাটির উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। তবে সাকিবকে মেন্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মত দেননি।