চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
শনিবার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ফল প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ফল জানার আগ্রহ দেখা যায়।
শিক্ষার্থীরা অনলাইনে নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিজেদের ফলাফল জানতে পারবে। এ জন্য eduboardresults.gov.bd অথবা educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল সংগ্রহ করা যাবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও অনলাইনে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল দেখতে পারবে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ওয়েবসাইটের ‘Result’ বিভাগে গিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন এবং প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন (EIIN) নম্বর ব্যবহার করতে হবে।
মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমেও ফল জানার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে HSC DHA 123456 2026 লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে। এখানে DHA-এর পরিবর্তে নিজ শিক্ষা বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর এবং 123456-এর জায়গায় পরীক্ষার্থীর নিজস্ব রোল নম্বর বসাতে হবে।
প্রকাশিত ফলাফলে কোনো অসংগতি বা আপত্তি থাকলে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন পরীক্ষার্থীরা। এ জন্য আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ থাকবে। আবেদন পদ্ধতি, ফি এবং অন্যান্য নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে জানানো হবে।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। দেশের ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
গত ২ জুলাই পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। তবে বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় পরবর্তী সময়ে সেগুলো আয়োজন করতে হয়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা পরে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
এবারের ফলাফলে পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ হওয়ায় সামগ্রিকভাবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। অন্যদিকে ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে তাদের কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফল প্রকাশের পর এখন শিক্ষার্থীদের পরবর্তী উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও ভর্তি কার্যক্রমের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।