ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সংঘাতের অবসান কীভাবে ঘটবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেননি। অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধে কাতারের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও নতুন করে সামরিক হামলার আশঙ্কাও পুরোপুরি কাটেনি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির বেতারকেন্দ্র কেসিএমওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিশ্চিত নিশ্চয়তা প্রয়োজন। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হবে না বলেও আগে জানিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে গিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এ আলোচনার সময় মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়। এর আগে কাতারের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে প্রস্তাবের শর্ত নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
কূটনৈতিক উদ্যোগের পাশাপাশি ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনাও সামনে এসেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পক্ষ থেকে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়ার খবর প্রকাশ করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। তবে প্রস্তাবিত আলোচনার বিস্তারিত শর্ত এবং বৈঠকের বিষয়ে তেহরানের চূড়ান্ত অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে দুই পক্ষের অবস্থানে বড় ব্যবধান রয়েছে। ওয়াশিংটন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ এবং দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা প্রতিরোধের নিশ্চয়তা চাইছে। অন্যদিকে, তেহরান যুদ্ধ বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়ার মতো শর্ত সামনে রেখেছে। এসব বিষয়ে সমঝোতা না হলে আলোচনায় অগ্রগতি কঠিন হয়ে পড়তে পারে
এদিকে, সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ও আঞ্চলিক মিত্রকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সম্ভাব্য হামলার জবাবে ইরান আঞ্চলিক জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখছে, অন্যদিকে সামরিক চাপও বজায় রাখছে। ফলে ট্রাম্পের সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার আশাবাদ এবং নতুন হামলার সম্ভাবনা—দুই ধরনের পরিস্থিতিই আলোচনায় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটবে, নাকি পরিস্থিতি আবারও সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত।