ঢাকা থেকে খুলনাগামী ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচির যাত্রাপথে গোপালগঞ্জ জেলাকে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তাঁর দাবি, স্থানীয়দের ভয়ে জামায়াতে ইসলামী গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা রাখেনি। এ সিদ্ধান্তকে দলটির রাজনৈতিক অপরিপক্বতার প্রকাশ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ প্রতিক্রিয়া জানান রাশেদ খান।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বিভিন্ন সময়ে দাবি করে থাকেন, তাঁরা এক আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পান না। কিন্তু ঢাকা থেকে খুলনাগামী লংমার্চের কর্মসূচি থেকে গোপালগঞ্জকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁদের সেই বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ খানের ভাষ্য, গোপালগঞ্জের স্থানীয়দের ভয়ে সেখানে পথসভা না করার সিদ্ধান্ত জামায়াতের সাহসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও সক্ষমতার দাবির প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলটির যদি এতটা সাংগঠনিক শক্তি ও সক্ষমতা থাকে, তাহলে গোপালগঞ্জে কর্মসূচি পালনে তারা পিছিয়ে থাকছে কেন?
জামায়াত রাজনৈতিক ঝুঁকি বা সংঘাতে জড়াতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তাঁর অভিযোগ, দলটি নিরাপদ ও সুবিধাজনক বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকতে আগ্রহী। গোপালগঞ্জে কর্মসূচি পালন করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দলটির নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের স্থানীয়দের কাছে দোয়া চাওয়ার বিষয়টিও তিনি সমালোচনা করেন।
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খান বলেন, মাঠের রাজনীতিতে জামায়াতের কাছ থেকে জনগণ যে দৃঢ় অবস্থান প্রত্যাশা করেছিল, দলটি তা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।
তবে গোপালগঞ্জে পথসভা না রাখার বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেওয়া ব্যাখ্যা বা এ অভিযোগের আনুষ্ঠানিক জবাব এই বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।