পাকিস্তান ক্রিকেটে একজন পূর্ণাঙ্গ অলরাউন্ডারের অপেক্ষা দীর্ঘদিনের। সেই অপেক্ষা হয়তো এবার ফুরাতে চলেছে। সদ্য সমাপ্ত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন ২১ বছর বয়সী আরাফাত মিনহাস।
সিরিজে ব্যাট হাতে ১৪৯ রান করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৯ উইকেট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক ম্যাচে ৫৯ রান করার পর নিয়েছেন ৬ উইকেট। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাইনালে মাত্র ৩১ বলে ৬১ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে পাকিস্তানের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। হয়েছেন সিরিজসেরা।
কদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে আরাফাত বলেছিলেন, ব্যাটিং বা বোলিং অলরাউন্ডার নয়, তিনি পূর্ণাঙ্গ অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচিত হতে চান। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে সেই লক্ষ্য পূরণের সামর্থ্যই যেন দেখালেন এই তরুণ।
এক ম্যাচেই বাজিমাত
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে চাপে পড়ে পাকিস্তান। ৮১ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ১৩৩ রানে পঞ্চম উইকেটের পতন হলে দলের বড় সংগ্রহ গড়ার পথ কঠিন হয়ে যায়।
এমন পরিস্থিতিতে হাসান নেওয়াজের সঙ্গে জুটি গড়ে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন আরাফাত। ৫৮ বলে ৫৯ রান করেন তিনি। তাঁর ও হাসানের ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০২ রান সংগ্রহ করে।
জবাবে ৩০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু করে ইংল্যান্ড। একপর্যায়ে ১৮ ওভারে ১ উইকেটে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১১৭ রান। তবে এরপরই বল হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন আরাফাত। বাঁহাতি স্পিনে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তিনি।
৮.৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন আরাফাত। শেষ দিকে সরাসরি থ্রোতে গাস অ্যাটকিনসনকে রানআউটও করেন। তাঁর নৈপুণ্যে ইংল্যান্ড ২১৫ রানে অলআউট হলে ৮৭ রানের জয় পায় পাকিস্তান।
ফাইনালেও দলের ত্রাতা
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ফাইনালেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন আরাফাত। শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৩০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে পাকিস্তান। জয়ের জন্য তখনো প্রয়োজন ছিল ৯৬ রান।
এমন পরিস্থিতিতে হাসান নেওয়াজের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে ৯৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন আরাফাত। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মাত্র ২৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩১ বলে ৬১ রান করে আউট হন। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৪টি ছক্কা।
আরাফাতের এই ইনিংসে ভর করে শ্রীলঙ্কাকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জেতে পাকিস্তান।
তবে কয়েকটি ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে কাউকে পূর্ণাঙ্গ অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বলা যায় না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে আরাফাতের বড় পরীক্ষা। আপাতত তাঁর পারফরম্যান্স পাকিস্তানকে একজন সম্ভাবনাময় অলরাউন্ডার পাওয়ার আশা দেখাচ্ছে।